সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৪৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
শিরোনাম :
খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে উখিয়া অনলাইন প্রেসক্লাবের শোক উখিয়া-টেকনাফ উপজেলা ভোট কেন্দ্র প্রতিনিধি সম্মেলনে মুহাম্মদ শাহজাহান উখিয়া অনলাইন প্রেসক্লাবের দ্বি-বার্ষিক নির্বাচন ২০২৫-এর ফলাফল ঘোষণা সভাপতি জসিম, সম্পাদক তানভীর উখিয়ার ঘাটে রোহিঙ্গা গোষ্ঠীর তাণ্ডব: পারিবারিক বিরোধের জেরে রক্তাক্ত সংঘর্ষ যেকোনো সময় সচল করা হতে পারে আ.লীগের কার্যক্রম: ড. ইউনূস মাদক ছিনতাই থেকে পাচার—সবখানেই সক্রিয় পালংখালীর মঞ্জুর আলম তাঁতীলীগ নেতাকে ছেড়ে দিয়ে সংবাদকর্মীকে গ্রেফতার করলেন উখিয়ার ওসি! কক্সবাজারে শিক্ষিকা ধর্ষণ মামলায় ৩ জনের যাবজ্জীবন জাতিসংঘে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব বিপুল ভোটে পাস অভিযোগ, বর্জন, বিক্ষোভের ভোট, ফলের অপেক্ষা

উখিয়া সমাজসেবা অফিসের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে  অভিযোগ

আলাউদ্দিন, উখিয়া: / ১৪৫ বার
আপডেট সময় : মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই, ২০২৪

উখিয়া উপজেলা সমাজসেবা অফিসের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অনিয়ম, খামখেয়ালিপনা, ঘুষগ্রহণ ও অসদাচরণের অভিযোগ উঠেছে। এ ছাড়া বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, পঙ্গু ভাতাসহ বিভিন্ন সরকারি সহায়তা নিতে গিয়ে জটিল রোগে আক্রান্ত বৃদ্ধ পুরুষ ও মহিলারা হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। দপ্তরের সামনে মাসের পর মাস ঘুরেও সেবা পাচ্ছেন না সেবাপ্রত্যাশীরা। এমনকি যথাযথ সেবা পেতে কারও কারও অপেক্ষা করতে হচ্ছে বছরেরও বেশি।

 

শুধু তাই নয়, সমাজসেবা অফিসের কর্মচারীদের বিরুদ্ধে টাকা নিয়ে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। অনৈতিকভাবে ভাতাপ্রাপ্তদের কাছ থেকে বইপ্রতি পঞ্চাশ থেকে তিনশো টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে বলে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন। যারা টাকা দেন তাদেরকে সিরিয়াল আগে দেওয়া হয়; টাকা দিলে সুযোগ-সুবিধা তারা আগে পান। আর যারা টাকা দেন না, সুবিধা পেতে কর্মকর্তাদের দোরগোড়ায় তাদের মাসের পর মাস ঘুরতে হয়।

 

ভুক্তভোগী ৬০ বছরের বৃদ্ধা ও পঙ্গু ছিদ্দিক আহমদ বলেন, গত আড়াই বছর আগে পঙ্গু ভাতার জন্য আবেদন করেন তিনি। এরপর সমাজসেবা অফিসের কর্তারা নানা অজুহাত দেখিয়ে তার ফাইলটি ফেলে রাখেন। এভাবে যেতে থাকে মাসের পর মাস। দীর্ঘ আড়াই বছর পর ছিদ্দিক আহমদ গত ২৪ জুন ফের সমাজসেবা অফিসে যোগাযোগ করলে তাকে পরে জানানো হবে বলে তাড়িয়ে দেওয়া হয়।

 

জালিয়াপালং ইউনিয়নের পাইন্যাশিয়া এলাকার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কিডনি রোগী ৫০ বছর বয়সী এক মহিলার ছেলে অভিযোগ করে বলেন, আমার মা দীর্ঘ ৫-৬ বছর ধরে কিডনি রোগে আক্রান্ত। অর্থসংকটে পড়ে আমরা উপজেলা সমাজসেবা অফিসে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়ে সহায়তা পাওয়ার জন্য একটি আবেদন করি। কিন্তু আবেদনের দুই বছর অতিবাহিত হলেও কোনো সহায়তা এখনো পাইনি৷

 

এদিকে, গত ৯ মার্চ কুতুপালং ক্যাম্পের মোহাম্মদ শফির ছেলে প্রবাসী মোহাম্মদ জুহার কানাডা থেকে এসে উখিয়ার জালিয়াপালং ইউনিয়নের পাইন্যাশিয়া এলাকার স্থানীয় এক কিশোরীকে রাজকীয়ভাবে বিয়ে করেন। রোহিঙ্গা ছেলে ও স্থানীয় কিশোরীর মধ্যে বিয়ে হওয়ার ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি করে। পরে জানাজানি হলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার তানভীর হোসেন বিয়ে বন্ধের নির্দেশ দেন। বিয়ের দিন দুপুরে উপজেলা সমাজসেবা অফিসার আল মাহমুদ হোসেন বিয়ে বন্ধ করলেও ওইদিন রাতে আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়েটি সম্পন্ন হয়। অনেকেই মনে করেন, সমাজসেবা অফিসারের রহস্যজনক ভূমিকায় সেদিন এই বিতর্কিত বিয়েটি সম্পন্ন হয়েছিল।

 

এ ছাড়াও সমাজসেবা অফিসারের বিরুদ্ধে ঘুষগ্রহণ ও কাবিনের টাকা আত্মসাৎয়ের অভিযোগ উঠেছে।

ভুক্তভোগী উপজেলার হলদিয়াপালং ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের হাছন আলীর মেয়ে বুলবুল আক্তার বলেন, ২০২১ সালের ২৮ জুন একই এলাকার মীর জাফরের ছেলে আবুল কালামের সঙ্গে রেজিস্ট্রি কাবিন মূলে চার লক্ষ টাকা দেনমোহর ধার্য করে দুই লক্ষ টাকা নগদ ও দুই লক্ষ টাকা বকেয়া রেখে বিয়ে সম্পন্ন হয়। একটি ছেলেসন্তান জন্মের দুই বছর পর, ২০২৩ সালের ২৩ নভেম্বর একতরফাভাবে তাকে রেজিস্ট্রিমূলে তালাক দেন তার স্বামী আবুল কালাম। বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ালে আদালত সমাজসেবা অফিসে বিষয়টি তদন্তের জন্য প্রেরণ করে। পরে সমাজসেবা অফিসের বৈঠকে দেনমোহর বাবদ দুই লক্ষ টাকা এবং বাচ্চার ভরণপোষণ বাবদ ১৮ হাজার টাকাসহ মোট দুই লক্ষ ১৮ হাজার টাকা বুলবুল আক্তারকে প্রদানের সিদ্ধান্ত হয়।

 

বুলবুল আক্তারের পিতা হাছন আলী বলেন,  সমাজসেবা অফিসের কর্মচারী নজরুল ইসলাম ও উপজেলা সমাজসেবা অফিসার আল মাহমুদ হোসেন মিলে এক লক্ষ ৯০ হাজার টাকা দিয়ে, বাকি ২৮ হাজার টাকা পরের সপ্তাহের রোববারে দেওয়ার কথা বলে তাদের চলে যেতে বলেন। জানা যায়, ঘটনাটি মীমাংসার জন্য বুলবুল আক্তারের কাছ থেকে চার হাজার টাকা নেয় সমাজসেবা অফিসের কর্মকর্তারা।

 

এ বিষয়ে তার স্বামী আবুল কালামের কাছে জানতে চাইলে বলেন, দুই লক্ষ ১৮ হাজার টাকা সমাজসেবা অফিসে প্রদান করেছি। পাশাপাশি টাকা প্রদান করে প্রাপ্তিস্বীকার ও না-দাবিপত্র গ্রহণ করেছি।

 

ভুক্তভোগী বুলবুল আক্তারের অভিযোগ, তার পিতাসহ তিনি একাধিকবার যোগাযোগ করলেও বাকি টাকা ফেরত দিচ্ছে না উপজেলা সমাজসেবা অফিস।

 

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা সমাজসেবা অফিসার আল মাহমুদ হোসেন মুঠোফোনে বলেন, ছিদ্দিক আহমদ আমাদের অফিসে এর আগে আসেননি। কিডনি রোগে আক্রান্ত মহিলার বিষয়ে বলেন, আর্থিক সহায়তা প্রদানের জন্য জেলা সমাজসেবা অফিস থেকে প্রাধান্যতালিকা তৈরি করা হয়। সেই তালিকায় যারা থাকেন, তাদেরকে সহায়তা প্রদান করা হয়। তিনি বলেন, রোহিঙ্গা ছেলের সঙ্গে বিয়ে না দিতে স্থানীয় ওই কিশোরীর পিতার কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হয়েছিল। এ ছাড়া বুলবুল আক্তারের বাকি টাকার বিষয়ে বিস্তারিত জানতে অফিসে যোগাযোগ করতে বলে তিনি ফোন রেখে দেন।

 

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার তানভীর হোসেন বলেন, অভিযোগকারী ও ভুক্তভোগীদেরকে আমার কাছে পাঠানোর ব্যবস্থা করুন৷ তাদের বক্তব্য শোনে সমাজসেবা অফিসারকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর
এক ক্লিকে বিভাগের খবর