উখিয়ার ব্যস্থতম স্টেশন কুতুপালং এর কচুবনিয়া রোডস্থ খাল ভরাট করে মার্কেট নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে গুটিকয়েক প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উখিয়া-টেকনাফ মহাসড়কের উত্তরে কুতুপালং বাজারের ১০০গজের মধ্যে বয়ে যাওয়া নাফ নদীর মোহনাস্থ খাল ভরাট করে বিশাল মার্কেট নির্মাণ করেছে রাজাপালং ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মনিন্দ বড়ুয়ার ছেলে সুলাল বড়ুয়া, দুলাল বড়ুয়া, বীটন বড়ুয়া, মৃনাল বড়ুয়া সহ তার অপরাপর ভাইয়েরা। গত তিন বছর পূর্বে সুলাল বড়ুয়ার মার্কেটের পশ্চিমাংশ দখল করে ২০/৩০টি মত দোকান নিমার্ণ করে রোহিঙ্গাদের ভাড়া দিয়েছে একই এলাকার ফকির আহমদ গং।
গত পাঁচ বছর পূর্বেও খালটিতে জোয়ার-ভাটা হত, নদীর পাড়ের স্থানীয় কৃষকেরা নদীর পানি দিয়ে ধান,গম সহ বিভিন্ন শাক-সবজি উৎপাদন করত। কালেরস্রোতে দখলদারদের কবলে পড়ে খালটি আজ মৃত প্রায়। ফলশ্রুতিতে খালটি সম্পূর্ণ ভরাট হয়ে বর্ষা মৌসুমে খালের পাড়ের বিস্তৃত আবাদি জমি ও খালের পাড়ে বসবাসকারী কয়েক শতাধিক বসতবাড়ি পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। গ্রীষ্ম মৌসুমে পানির অভাবে শতাধিক একর জায়গা অনাবাদি রয়ে যাবে।
এ নিয়ে এলাকাবাসী ও পথচারীরা উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট লিখিত অভিযোগ করেও কোন সুরাহা হয়নি। উপরন্তু কোন এক অদৃশ্য শক্তির ইশারায় খালের অর্ধেক জিও ব্যাগ দিয়ে ভরাট করে টিনশিট মার্কেট করেছে মনিন্দ বড়ুয়া গং ।
মার্কেটটি নির্মাণ করা হয়েছে উখিয়া-টেকনাফের মহাসড়ক ঘেঁষে! যেখানে দখল করা হয়েছে সড়ক ও জনপদ বিভাগের বিশাল জায়গা। পূর্ব অংশে টমটম পার্কিং ছিল সেখানেও দোকানঘর নির্মাণ করেছে দখলদাররা, বর্তমানে অর্ধশতাধিক টমটম কুতুপালং-কচুবনিয়া সড়কের উপর দাঁড়িয়ে থাকে যা রিতীমত দূর্ঘটনার সম্মুখীন হচ্ছে যাত্রী ও পথচারীরা। খালটির দুই-তৃতীয়াংশ প্রভাবশালীরা দখলে করার পর বাকি অংশে পুরো কুতুপালং বাজারের সহস্রাধিক দোকানের ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে যার দূর্গন্ধে রাস্তা ধরে চলাচল করাও কষ্ট সাধ্য হয়ে পড়েছে!
অভিযুক্ত মনিন্দ বড়ুয়ার ছেলে সুলাল বড়ুয়ার সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, নির্মাণকৃত মার্কেটের জায়গাটি আমাদের খতিয়ানভুক্ত, খালের অংশে আমার আরো জায়গা রয়েছে। তবে তিনি বৈধ কোন কাগজপত্র দেখাতে পারেনি।
সড়ক ও জনপদ বিভাগের জায়গা ও খাল ভরাট করে সুলাল বড়ুয়া ও ফকির আহমদ গংদের মার্কেট নির্মাণের বিষয়ে কুতুপালং ৯নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ইঞ্জিনিয়ার হেলাল উদ্দিনের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, খাল ভরাট করে মার্কেট নির্মাণ করার সময় স্থানীয় ও পথচারীদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আমি সরজমিনে গিয়ে খাল ভরাটের সত্যতা পায়, স্থানীয়দের প্রতিবাদের মুখে কিছুদিন কাজ বন্ধ থাকলেও পূণরায় তারা মার্কেট নির্মাণ কাজ চালিয়ে যায়।
কুতুপালং ও পার্শ্ববর্তী নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার কচুবনিয়ার দুইপারের স্থানীয় জনসাধারণ ও পথচারীদের দাবী সুলাল বড়ুয়া ও ফকির আহমদ গং সহ অপরাপর দখলদারদের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ পূর্বক ঐতিহাসিক নাফ নদীর অংশবিশেষ কুতুপালং খালটি ড্রেজিং করে পূণরায় প্রাকৃতিক জলদ্বারের ব্যবস্থা করা হউক।